রূপচর্চার করনীয়ঃ
খাবার কি শুধুমাত্রই পেটের ক্ষুধা মিটিয়ে দেহের পুষ্টি যোগায়? অবশ্যই নয়। খাদ্যদ্রব্যের আরও অনেক ব্যবহার রয়েছে। পুরুষেরা নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন শুনে? কিন্তু নারীদের অবাক হওয়ার কথা নয়। কারণ তারা জানেন যে অনেক খাদ্যদ্রব্য আছে যা খুব সহজেই রূপচর্চা কাজে ব্যবহার করা যায়। প্রাকৃতিক উপায়ে রূপচর্চা সম্পাদিত হয় বিধায় কোন প্রকার পার্শ-প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না! কিন্তু কি কি খাবার ব্যবহার করবেন রূপচর্চার জন্য? জানার জন্য পড়ে নিন এই আর্টিকেলটি!
যে সমস্ত খাদ্য দ্রব্য রূপচর্চা কাজে ব্যবহার করা যায় তাদের নাম এবং ব্যবহারের নিয়ম নিন্মে বর্নিত হলোঃ
মধু
মধু প্রাকৃতিকভাবে উপকারী একটি উপাদান যা ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখতে সহায়তা করে। মধুতে থাকা এনজাইম ত্বকের লোমকূপ পরিস্কার করতে সাহায্য করে।এছাড়া মধুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের ভারসাম্য রক্ষা করে কালচে ভাব দূর করে। মধু যেহেতু অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সম্পন্ন একটি উপাদান, তাই এই উপাদানটি মুখে ব্যবহারে তা খুব সহজেই ক্ষত চিহ্ন নির্মূলে সহায়তা করে থাকে। মধুতে থাকা নিউট্রিয়েন্টস নিস্তেজ চুলকে উজ্জ্বল করে। এটি চুলে কন্ডিশনারের কাজ করে। তাই এর জন্য দুই টেবিল চামচ মধু নারিকেল তেলের সাথে চুলে মাখতে পারেন। তবে মধু কেনার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে তা প্রাকৃতিক খাঁটি মধু কি না! বাজারে অনেক ভেজাল মধু পাওয়া যায় যা ব্যবফারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
বিভিন্ন ফলের রস বা জুস
রুপচর্চার কাজে বিভিন্ন ফলের জুস এর ব্যবহার নতুন কিছু নয়! বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন ফলের মধ্যে আপেল অন্যতম। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর ভিটামিন বি ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে রক্ষা করে। পুষ্টিকর খাবার হিসেবেই নয়, রূপচর্চায়ও আপেল দারুণ কার্যকর। প্যাকটি তৈরি করতে প্রথমে একটি আপেল ছোট ছোট করে কেটে ব্লেন্ডারে মিহি করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তারপর আপেলের পেস্টের সঙ্গে ২ টেবিল-চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে চোখের চারপাশ এড়িয়ে পুরো মুখে লাগাতে হবে। প্যাকটি লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে কিছুটা শুকিয়ে গেলে, কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখের চামড়ায় ভাজ পড়া ও পিগমেন্টেশনের সমাধানে আপেল খুব কার্যকরী একটি ফল । শুষ্ক ত্বকের জন্য ১/২ টি আপেল বেটে তাতে ১/২ চামচ লেবুর রস ,সামান্য শসার রস আর একটি অর্গানিক ডিমের কুসুম একত্রে মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এটি ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা কমে আর্দ্রতা বজায় থাকবে আর ত্বক মসৃণ কোমল হবে। আপেলের এন্টি এইজিং উপাদান বলিরেখা সমস্যা সমাধানে ভীষণভাবে কাজ করে। খুশকি দূর করতে মাথার ত্বকে কমলালেবুর রস ব্যবহার করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কমলালেবুর রসের সাথে গোলাপজল ও মধু মিশিয়ে তুলা দিয়ে নিয়মিত মুখে লাগালে মুখের রুক্ষ ভাব কমে যাবে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে ও ত্বকের কোমলতা বাড়বে।
লেবু
রূপচর্চাতেও লেবুর রয়েছে সমান দক্ষতা, শুধু জানতে হবে উপযুক্ত ব্যবহার। দৈনন্দিন জীবন যাপনে বিপর্যস্ত হতে পারে আপনার সৌন্দর্য। তাই জেনে নিন লেবুর ছোঁয়ায় রূপের যত্ন নিতে কিছু কার্যকরী ব্যবহার।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা
- নখের যত্ন
- ত্বকের কালো দাগ দূর
- প্রাকৃতিক টোনার
- ব্রণ দূর
- কনুই ও হাঁটুর কালচে দাগ
ঘরোয়া বডি স্ক্রাব তৈরি
প্রাকৃতিক বডি কেয়ার লাইন ‘মেডিসিন মামা’স অ্যাপোথিকেরি’র প্রতিষ্ঠাতা ডোনা স্টেইনম্যান ঘরোয়া উপায়ে ত্বক কোমল করার একটি স্ক্রাব তৈরির উপায় জানিয়েছেন। এই স্ক্রাব তৈরি করতে প্রয়োজন হবে একটি পাকা অ্যাভাকাডো, এক টেবিল-চামচ সামুদ্রিক লবণ, এক টেবিল-চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল এবং এক টেবিল-চামচ মধু।
স্টেইনম্যান বলেন, “অ্যাভাকাডো, অলিভ অয়েল এবং মধু, এই প্রতিটি উপাদানই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আর লবণ একজিমাসহ ত্বকের আরও কিছু সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।”
ত্বক পরিচর্যার জন্য চা জমিয়ে নেওয়া
পানিতে চা পাতা ফুটিয়ে তা বরফ হিসেবে জমিয়ে নিতে হবে। এই বরফের টুকরা ত্বকে ঘষে নিতে হবে, যতক্ষণ না তা পুরেপুরি গলে যায়। সপ্তাহে একবার ব্যবহারে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করা যায়। প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘ফ্রেশ’য়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লেভ গ্লেজম্যান বলেন, “চায়ের ট্যানিন ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।”
দুধের দু’টি ব্যবহার
নিউ ইয়র্কের চর্মরোগবিশেষজ্ঞ এলিন মার্মুর বলেন, “দুধ একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার, যাতে আছে প্রচুর ল্যাকটিক অ্যাসিড। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বকের জ্বলুনি দূর করতে সাহায্য করে।”
ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ঠাণ্ডা দুধে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে মুখে চেপে ধরে রাখতে হবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট।
No comments:
Post a Comment